//সাইবার ক্রাইম বা সাইবার অপরাধ কি? বাঁচার উপায় সমূহ?
সাইবার ক্রাইম বা সাইবার অপরাধ কি? বাঁচার উপায় সমূহ? Save

সাইবার ক্রাইম বা সাইবার অপরাধ কি? বাঁচার উপায় সমূহ?

সাইবার ক্রাইম এর আরেকটি নাম হলো কম্পিউটার অপরাধ অর্থাৎ কম্পিউটার এবং ইন্টারনেট ব্যবহার করে অপরাধমূলক কর্মকান্ড করা হয়।

সাইবার ক্রাইম একটি অপরাধমূলক পন্থা যেটি ব্যবহার করে মানুষের ব্যাক্তিগত তথ্য, গোপনীয় ব্যবসায়িক তথ্য, সরকারী তথ্য চুরি করতে এবং কোনো ডিভাইসকে অক্ষম করতে সক্ষম। বর্তমান সময়ে সইবার ক্রাইম করে অনলাইন ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে কয়েক মিলিয়ন ডলার চুরি করা হচ্ছে প্রতিনিয়ত।

তাছাড়াও সাইবার ক্রাইম এর মাধ্যমে কম্পিউটারে ভাইরাস তৈরি ও বিতরণ করা বা ইন্টারনেটে গোপনীয় ব্যবসায়ের তথ্য পোস্ট করার মতো কর্মকান্ড করার ক্ষমতা রাখে।

যারা সাইবার-অপরাধ করেন তারা সাইবার অপরাধী বা সাইবার ক্রিমিনাল নামে পরিচিত।

বর্তমান সময়ে প্রযুক্তির আরও সহজলভ্য হওয়ার কারনে সাইবার ক্রাইম কর্মকান্ডটি আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে। অনলাইনে এবং পেপোর-পত্রিকায় প্রতিদিনই দেখতে পাওয়া যায় এই ভয়াবহ হয়রানীর স্বীকার। তাছাড়াও সাইবার অপরাধীরা দিনি আরও বড় ধরনের কর্মকান্ড করছে যেগুলো ধারনার বাইরে, যেমন বিশ্বের বড় বড় ব্যাংকগুলোকে হ্যাক করে মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার হাতিয়ে নিচ্ছে।



সাইবার ক্রাইম এর কয়েকটি উদাহরণ:

  1. গোপনীয় তথ্য চুরি করা একটি সাধারণ কাজ সাইবার ক্রিমিনালদের জন্য।
  2. ডেটা বা অ্যাপ্লিকেশনটিতে আদেশ ছাড়া অ্যাক্সেস বা পরিবর্তন করার ক্ষমতা রাখে।
  3. কারও ক্রেডিট কার্ড বা ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে অর্থ ব্যয় করার মতো ক্ষমতা রাখে।
  4. কম্পিউটারে ভাইরাস বা ম্যালওয়্যার ছড়িয়ে বা পাঠিয়ে কার্যক্রম ব্যহত করতে পারে।
  5. ব্যক্তিগত লাভ অর্জনের জন্য বা করো ক্ষতিসাধন করার জন্য কারও নামে নকল অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে অপ্রত্যাশিত কর্মমান্ড ছড়িয়ে থাকে।
  6. জনসাধারণের নিকট এমন কন্টেন্ট পোস্ট করে যা অসন্তুষ্টকর বা অশান্তি সৃষ্টি করা এবং মানুষের অনুভূতিকে আঘাত করতে পারে।



সাইবার ক্রাইম এর প্রকারভেদ:

১. DDoS আক্রমণ:

এটি এমন একটি পদ্ধতি যেখানে কোনো অনলাইন সার্ভিস বা ওয়েবসাইটে অতিরিক্ত ট্রাফিক পাঠিয়ে নেটওয়ার্কটির কার্যক্রম নামিয়ে ফেলে এবং কম্পিউটারে প্রচুর পরিমানে ম্যালওয়্যার জমা করে। নেটওয়ার্কটি ডাউন হয়ে যাওয়ার পরে হ্যাকার সিস্টেম হ্যাক করে।

২. ফিশিং:

ফিশিং পদ্ধতিটি ব্যবহার করে ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত বা গোপনীয় তথ্য পাওয়া যায়। যেমন: ব্যাংক অথবা ক্রেডিট কার্ডের তথ্য হতে পারে।

৩. পরিচয় প্রতারণা/ Identity Theft:

এই পদ্ধতি ব্যবহার করে হ্যাকার ব্যবহারকারীর গোপনীয় তথ্য অ্যাক্সেস করতে বা স্বাস্থ্য বীমা জালিয়াতিতে অংশ নিতে পারে। হ্যাকাররা ব্যবহারকারীর পাসওয়ার্ড এবং সোশ্যাল মিডিয়া সন্ধান করে ব্যবহারকারীর তথ্য চুরি করে থাকে।

৪. সাইবার বুলিং:

সাইবার বুলিং হলো ইন্টারনেট সংযোগের মাধ্যমে কাউকে হুমকি, অপমান, অপ্রীতিকর কথাবার্তা এবং বিভিন্নভাবে হয়রানী করা হয়। বর্তমানে এরকম অপরাধ বেশিরভাগই দেখা যায়, এগুলো বেশিরভাগ সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে হয়ে থাকে।

৫. হ্যাকিং:

হ্যাকিং এর মাধ্যমে হ্যাকাররা খুব সহজেই আপনার সিস্টেমে আপনার অনুমতি ব্যাতীত প্রবেশ করে এবং ইচ্ছামত ডাটা চুরি করতে পারে।

৬. অনলাইন কেলেঙ্কারী:

এ পদ্ধতির মাধ্যমে অনলাইনে প্রলুদ্ধকর অফার বা লোভনীয় বিজ্ঞাপন দিয়ে থাকে কিন্তু আপনি যখন এগুলোতে ক্লিক করবেন তকন ম্যালওয়্যার তথ্যকে হস্তক্ষেপ করতে পারে। এভাবে হ্যাকাররা অনলাইনে কেলেঙ্কারী করে থাকে।



কীভাবে সাইবার ক্রাইম রোধ করা যায়:
  1. আপনি যে বিষয় সম্পর্কে জানেন না অর্থাৎ অজানা উৎস থেকে কিছু ডাউনলোড করবেন না।
  2. সবসময় শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহার করুন আপনার সিস্টেমে।
  3. প্রতিনিয়ত আপনার সফ্টওয়্যার আপডেট রাখুন।
  4. কোনও ব্যক্তিগত তথ্য প্রবেশের আগে আপনি বৈধ ওয়েবসাইটে রয়েছেন কিনা তা পরীক্ষা করে দেখুন।
  5. আপনার সামাজিক মিডিয়া সঠিকভাবে পরিচালনা করুন অর্থাৎ আপনার সকল তথ্য যেন হ্যাকাররা না পায় সেজন্য কিছু তথ্য প্রাইভেসি রাখুন।
  6. ভিপিএন ব্যতীত এনক্রিপ্ট না করা পাবলিক ওয়াই-ফাই ব্যবহার করবেন না।
  7. পর্ন সাইটগুলিতে এমন ভাইরাস রয়েছে যা আপনার ফোন / কম্পিউটারে হ্যাক করতে পারে এবং আপনার ব্যাংক অ্যাকাউন্টের পাসওয়ার্ডের মতো সংবেদনশীল তথ্যে অ্যাক্সেস পেতে পারে। তাই এই সাইটগুলোতে যাওয়া খুবই তথ্য সম্পর্কিত ঝুঁকি থাকে।
  8. আপনার মোবাইল নম্বর সামাজিক মিডিয়া বা সন্দেহজনক বা অজানা ওয়েবসাইটগুলিতে শেয়ার করবেন না।
  9. ফোন থেকে সমস্ত অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ্লিকেশন ডিলিট করে ফেলুন।
  10. আপনার ডিভাইসটি বিক্রি করার আগে আপনার সংবেদনশীল অ্যাপ্লিকেশনগুলি এবং ফোনটিকে ফরম্যাট করে নিন।

এগুলো মানার মাধ্যমে আপনি খুব সহজেই সাইবার ক্রাইম থেকে রক্ষা পেতে পারবেন।