//ব্যবসায়ের বৈশিষ্ট্য কি? ব্যবসায়ের বৈশিষ্ট্য আলোচনা কর?
ব্যবসায়ের বৈশিষ্ট্য কি? ব্যবসায়ের বৈশিষ্ট্য আলোচনা কর? Save

ব্যবসায়ের বৈশিষ্ট্য কি? ব্যবসায়ের বৈশিষ্ট্য আলোচনা কর?

আমরা জানি ব্যবসায় একটি অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড, যা মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্যে পণ্যদ্রব্য ও সেবাকর্ম উৎপাদন ও বণ্টনের কাজের সাথে জড়িত, আর ব্যবসায়ের এইসকল বৈধ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে ব্যবসায় বলে অবহিত করা হয়। ব্যবসায় অবশ্যই বৈধ উপায়ে হতে হবে, অবৈধ উপায়ে ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডকে ব্যবসায় বলে বিবেচনা করা হয় না। 

ব্যবসায়ের বৈশিষ্ট্য সমূহ:

১. উদ্যোগ গ্রহণ: উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমে ব্যবসায় শরু হয়ে। যেকোনো ব্যবসায় প্রতিষ্ঠার জন্য এক বা একাধীক ব্যক্তি উদ্যোগ গ্রহণ করে থাকে। নতুন ব্যবসায় শুরু করতে চাইলে উদ্যোগ গ্রহণ করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। উদ্যোগ হলো, ঝুঁকি আছে জেনেও মুনাফার আশায় কষ্টসাধ্য কাজে হাত দেয়া।

আর যিনি ব্যবসায় উদ্যোগ নেন তাকে উদ্যোক্তা বলা হয়। তাই উদ্যোগ ও উদ্যোক্তা একে অপরের সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত থাকে। যে কোনো দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে উদ্যোগ ও উদ্যোক্তার গুরুত্বপূর্ণ অপরিসীম। তাই বলা হয়ে থাকে মানুষের বড় গুণ হলো উদ্যোগ গ্রহণ করা। আর উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমেই কেবল শিল্পসহ অন্যান্য খাতের উন্নয়ন সম্ভব।

২. মুনাফ লাভ: মুনাফা লাভ করা ব্যবসায়ের একটি প্রধান বৈশিষ্ট্যের মধ্যে পড়ে। যেকোনো ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান গড়ার মূল উদ্দেশ্যই হলো মুনাফা অর্জন করা। ব্যবসায় একটি ঝুঁকিমূলক কর্মকাণ্ড, যেখানে মুনাফা হতে পারে আবার নাও হতে পারে অর্থাৎ অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকে। আর মুনাফাকে ব্যবসায়ের ঝুঁকি গ্রহণের পুরুষ্কার স্বরুপ বিবেচনা করা হয়। সুতরাং, যেকোনো ব্যবসায়ের সকল কর্মকাণ্ড মুনাফা অর্জনের উদ্দ্যেশ্যে পরিচালিত হতে হবে তা না হলে এটি ব্যবসাযের অন্তর্ভুক্ত হবে না।

৩. ঝুঁকি ও অনিশ্চয়তা: ব্যবসায়ের সাথে ঝুঁকি ও অনিশ্চয়তা ওতপ্রোতভাবে জড়িত। সব ধরণের ব্যবসায়েই ঝুঁকি বিদ্যমান থাকে, যদি কোনো ব্যবসায়ে ঝুঁকি না থাকে তাহলে তা ব্যবসায় বলে গণ্য হবে না। ঝুঁকি হলো প্রত্যাশিত কোনো কিছু অর্জন না হওয়া বা আর্থিক ক্ষতির সম্ভাবনা। আর অন্যদিকে, অনিশ্চয়তা হলো প্রত্যাশা যে করছি তা হতেও পারে নাও হতে পারে। 

যদিও আমরা ঝুঁকির বিপরীতে বিমা গ্রহণ করে এর ক্ষতির মাত্রা কমাতে পারি। কিন্তু অনিশ্চয়তার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের বিমা গ্রহণ করার সুযোগ নাই। ঝুঁকিকে পরিমাপ করা যায়, এর বিপরীতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া যায়। 

৪. অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড:

সকল ব্যবসায় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত থাকে। ব্যবসায়ের সকল ধরনের লেনদেন ও পরিচালনার কাজে অর্থের ব্যবহার করা হয়। সুতরাং, যদি কোনো উদ্যোগ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত থাকে তাহলে তা ব্যবসায় বলে বিবেচিত হবে। অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ব্যবসায়ের একটি অন্যতাম বৈশিষ্ট্য।

৫. মূলধন: যেকোনো ব্যবসায়ের শুরু করার জন্য মূলধন প্রয়োজন, অর্থাৎ মূলধন ব্যবসাযের প্রাণশক্তি হিসেবে কাজ করে। ব্যবসায়ের মূলধন সংগ্রহ করাও ব্যবসায়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ। ব্যবসায়ীগণ ব্যবসাযের মূলধন সংগ্রহ করে থাকে তাদের নিজস্ব তহবিল থেকে, ঋণ গ্রহণের মাধ্যমে বা অন্য কোনো উৎস হতে।

৬. বৈধতা: প্রতিটি ব্যবসায় অবশ্যই বৈধতা হতে হবে কেননা অবৈধ কর্মকাণ্ডকে ব্যবসায় বলে বিবেচিত হয় না। তাই ব্যবসায়ের সকল কর্মকাণ্ডকে বৈধ উপায়ে সম্পাদন করতে হয়। যদি কেউ অসৎ পথ অবলম্বন ও অবৈধ উপায়ে মুনাফ অর্জন করে তাহলে তার কাজকে ব্যবসায় বলা যাবে না। যেমন: চোরাচালান, অবৈধ অস্ত্র, চাঁদাবাজি ইত্যাদি।

৭. সংগঠন: ব্যবসায়ের লক্ষ্য অর্জনের জন্য যখন কিছু ব্যক্তি একত্রিত হয় এবং ধারাবাহিকভাবে ব্যবসায়ের সকল কর্মকাণ্ড দক্ষতার সাথে সমন্বয় সাধন করার কাজে নিয়োজিত থাকে তখন তাকে সংগঠন বলা হয়। 

৮. ক্রেতা এবং বিক্রেতা: প্রতিটি ব্যবসায়ের লেনদেনের ক্ষেত্রে কমপক্ষে দুটি পক্ষ জড়িত থাকে যেমন: ক্রেতা এবং বিক্রেতা। ব্যবসায়ে ক্রেতা ও বিক্রেতার মধ্যে চুক্তির মাধ্যমে পণ্যদ্রব্য ক্রয়-বিক্রয় হয়ে থাকে।

৯. লেনদেনের পৌনঃপুনিকতা: যেকোনো ব্যবসায়ের ক্ষেত্রে লেনদেন বারে বারে বা অব্যাহতভাবে সম্পাদিত হয়। যেমন: একজন আম ব্যবসায়ী ‍যিনি নিয়মিতভাবে আম ক্রয় করেন এবং বিক্রি করেন। সুতরাং তিনি তার ব্যবসায়ে সবসময় আম ক্রয়-বিক্রয়ের কাজের সাথে জড়িত থাকেন। কিন্তু কেউ যদি মাঝেমধ্যে তার গাছের আম বাজারে নিয়ে বিক্রি করেন, সবসময় ক্রয়-বিক্রয়ের সাথে জড়িত থাকেন না, তাহলে তাকে ব্যবসায়ী বলা যাবে না।

১০. সামাজিক দায়বদ্ধতা: ব্যবসায়ের ক্ষেত্রে সামাজিক দায়বদ্ধতা রক্ষা করা ব্যবসায়ের একটি অন্যতম বৈশিষ্ট্য। জনগণের ক্ষতি হয় এমন কোনো ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করা যাবে না। তাছাড়া ব্যবসায়ীরা তাদের সামাজিক দায়বদ্ধতা সম্পর্কে খুব সচেতন থাকে। ব্যবসায়ীরা ব্যবসায়ের পাশাপাশি সমাজের বিভিন্ন ধরনের উন্নয়নমূলক কাজের সাথে জড়িত থাকেন। সুতরাং ব্যবসায়ের ক্ষেত্রে সামাজিক দায়বদ্ধতা রক্ষা করা একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ।