//আমলকী খাওয়ার উপকারীতা | আমলকীর ১০টি উপকারিতা
আমলকী খাওয়ার উপকারীতা | আমলকীর ১০টি উপকারিতা Save

আমলকী খাওয়ার উপকারীতা | আমলকীর ১০টি উপকারিতা

আমলকী প্রকৃতির এক দুর্দান্ত উপকারী ফল। আমলকী সাধারণত ফিলান্টাস এমব্লিকা বা ইংরেজিতে আমলা নামে পরিচিত। এটার ফল ও পাতা উভয়ই ওষুধ হিসাবে ব্যবহৃত হয়। আমলকী রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করতে সহায়তা করে এবং হৃদরোগের সেরা ঘরোয়া প্রতিকার হিসেবে কাজ করে। তাছাড়াও আমলকি আপনার চুলের যত্নেও বড় ভূমিকা পালন করে। একটি ছোট আমলকিতে দুটি কমলালেবুর সমান ভিটামিন সি রয়েছে। আমলকির ব্যবহার প্রাচীন কাল থেকেই চলে আসছে এবং এর কারন আমলকির উপকারীতা এবং এর ব্যবহার সীমাহীন।

আমলকীতে প্রচুর পরিমানে ভিটামিন সি, কার্বোহাইড্রেট, ক্যালসিয়াম, ভিটামিন এ এবং আয়রনে পূর্ণ রয়েছে। আমলকির ব্যবহার মূলত আয়ুর্বেদিক চিকিৎসায় বেশি ব্যবহৃত হয়। 

আমলকির ব্যবহারকারীরা সাধারণ যে উপকারগুলো পায়ঃ পাকস্থলীর অ্যাসিডের ভারসাম্য বজায় রাখে, লিভারকে আরও শক্তিশালী করে তোলে এবং মস্তিষ্ক ও মানসিক কার্যকারিতা পুষ্ট করে তোলে। এটি ফুসফুসকেও শক্তিশালী করে, এর উর্বরতা বাড়ায়, মূত্রতন্ত্রকে সহায়তা করে, ত্বকের গুণমান উন্নত করতে সহায়তা করে এবং স্বাস্থ্যকর চুল গঠন করতে বড় অবদান রাখে, আপনার দৃষ্টি যত্নে সহায়তা করে এবং পেশীর স্বর উন্নত করে। তাহলে বুঝতেই পারছেন আমলকীর কত উপকারীতা রয়েছে। 

আমলকীর ১০ টি উপকারীতাঃ

১. চুলের যত্নেঃ

আমাদের অনেকেরই একটি সাধারণ সমস্যা হলো চুল পড়া এবং চুল পাতলা হয়ে যাওয়া। আসলে এ সমস্যাটি হয় মূলত ভিটামিন সি এর অভাবজনিত কারন। আপনার এ সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে হলে আমলকি ফলের রস দিয়ে চুল ওয়াস/ধৌত করলে এটি চুলের শিকড়কে শক্তিশালী, চুলের রঙ বজায় রাখে এবং দীপ্তি বাড়ায়। এছাড়াও আমলা তেল ব্যবহার করতে পারেন এটাও আপনার চুল বৃদ্বি করে এবং চুল পড়া বন্ধ করে।

আমলকিতে রয়েছে শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেটিভ বৈশিষ্ট্য যা কোষের পক্বতা এবং অবক্ষয়ের বিরুদ্ধে লড়াই করে। এটি চুলের মান উন্নত করতে এবং অকাল ধূসর হওয়া রোধ করতে পারে।

২. অত্যন্ত পুষ্টিকর খাবার আমলকীঃ

মাত্র ১০০ গ্রাম আমলাতে রয়েছেঃ

  • ক্যালোরি: ৯৬ (শক্তি)
  • প্রোটিন: ০.৯ গ্রাম
  • ফ্যাট: ০.১ গ্রাম
  • কার্বোহাইড্রেট: ৬.৯ গ্রাম
  • আয়রন: ১.২ গ্রাম
  • ফাইবার: ৩.৪ গ্রাম

আমলকিতে ফ্যাট কম থাকে, তবুও এটি পুষ্টিগুণসম্পন্ন।

৩. চোখের স্বাস্থ্যেঃ

আমলকি চোখের স্বাস্থ্যের জন্য বড় উপকারি কারন আমলকীতে থাকা ভিটামিন সি ব্যাকটেরিয়ার সাথে লড়াই করে এবং আপনার চোখকে কনজেক্টিভাইটিস এবং অন্যান্য চোখের সংক্রমণ থেকে রক্ষা করে। আপনি যদি নিয়মিত আমলকি খাওয়া শুরু করেন তাহলে আপনার দৃষ্টিশক্তির উন্নতি করবে। এবং এটি আপনার চোখের পেশিগুলোকে আরও শক্তিশালী করে থাকে। 

চোখের দৃষ্টি উন্নত করতে, সারারাত ধরে আমলকির গুঁড়ো পানিতে ভিজিয়ে রাখুন। পরের দিন সকালে এই পানি ফিল্টার করুন এবং এই পানি দিয়ে আপনার চোখ ধুয়ে ফেললে আপনার দৃষ্টিশক্তির উন্নতি হবে।

৪. আমলকী ডায়াবেটিস চিকিৎসা হিসেবেঃ 

ডায়াবেটিস রোগীদের ব্লাড সুগার এবং লিপিডের মাত্রা নিয়ন্ত্রন করতে আমলকি ভূমিকা রাখে। টাইপ ২ ডায়াবেটিস রোগীদের রক্তের গ্লুকোজ এবং লিপিড প্রোফাইলে আমলা ফলের প্রভাব নিয়ে আন্তর্জাতিক খাদ্য বিজ্ঞান ও পুষ্টি, এ আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশিত ২০১১ সালের একটি গবেষণা সমীক্ষায় বলা হয়েছে যে এটিতে অ্যান্টি-হাইপারগ্লাইসেমিক এবং লিপিড-হ্রাসকারী বৈশিষ্ট্য রয়েছে। রক্তে শর্করার মাত্রা ডায়াবেটিস প্রতিরোধে সহায়তা করে। কোলেস্টেরলের মাত্রা কম রাখতে সহায়তা করে।

৫. আপনার মস্তিষ্ক রক্ষা করতেঃ

আমলকী মস্তিষ্কের জন্য একটি শক্তিশালী খাদ্য হিসাবে বিবেচিত হয় কারন এতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্টস এবং ফাইটোনিউট্রিয়েন্টগুলি মস্তিষ্কের বয়স-সম্পর্কিত রোগগুলিতে উপকৃত হতে পারে এবং আপনার স্ট্রোকের ঝুঁকি হ্রাস করে বলে মনে করা হয়। তাছাড়াও এটি স্মুতি শক্তি ও বুদ্ধি বাড়াতে সাহায্য করে। প্রত্যেকদিন ২ বার আমলকির রস পান করতে পারেন, খাবারের আগে পান করা ভালো।

৬. আপনার হার্টের জন্য ভালঃ

আমলকি আপনার হার্টের ঝুঁকি হ্রাস করে থাকে, এতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিড্যান্টগুলি আপনার রক্তে এলডিএল কোলেস্টেরল জারণ রোধ করে হার্টের স্বাস্থ্যের উন্নতি করে। অ্যান্টিঅক্সিডেন্টস এবং পটাসিয়াম সহ হৃদরোগের উন্নতি ঘটাতে অনেক পুষ্টি রয়েছে আমলকিতে। গবেষণায় দেখা গেছে যে, রক্তনালীগুলির স্থিতিস্থাপকতা বৃদ্ধি করে, কোলেস্টেরল এবং ট্রাইগ্লিসারাইড হ্রাস করে এবং হৃৎপিণ্ডের সামগ্রিক কার্যকারিতা উন্নত করে।

৭. ক্যান্সারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সহায়তা করতে পারেঃ

আমলকীতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিড্যান্টরা অক্সিডেটিভ স্ট্রেসের বিরুদ্ধে লড়াই করে এবং শরীর থেকে ফ্রি র‌্যাডিক্যালগুলি নির্মূল করে, যার ফলে ক্যান্সারের ঝুঁকি হ্রাস পায়। ইউরোপীয় জার্নাল অফ ক্যান্সার প্রতিরোধের অন্যান্য গবেষণায় দেখা গেছে যে এই ছোট ফলটি ক্যান্সার এবং ডায়াবেটিস সহ বিভিন্ন রোগের অবস্থার বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী হাতিয়ার হিসেবে কাজ করে।

সুতরাং, নিয়মিত আমলকির সেবনের মাধ্যমে ক্যান্সারের ঝঁকি এড়ানো যায়।

৮. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়ঃ

আমলকিতে রয়েছে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর শক্তি। এটি ভিটামিন সি এর একটি বড় অংশ যা আপনার Immunity বা প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় তার সাথে আপনার দেহের বিপাক উন্নত করে। তাছাড়াও অন্যান্য রোগ ও সংক্রমণ রোধে সহায়তা করে থাকে।

৯. ক্ষুধা বাড়াতেঃ

আমলকী আপনার ক্ষুধার পরিমান বাড়াতে সাহায্য করে এবং হজমের সমস্যার সমাধান করে। আপনি চাইলেই আপনার খাবারের সাথে আমলার গুঁড়ো খেতে পারেন এর ফলে বদহজম, রক্তস্বল্পতা, মূত্রথলির সমস্যা প্রতিকার পেতে পারেন।

আমরা অনেকেই দেখে থাকি যে, বেশিরইভাগ মানুষই তাদের খাদ্যের রুচি বাড়াতে আমলকি খেয়ে থাকে। সুতরাং বলা যায় যে, আমলা/ আমলকি খাওয়ার মাধ্যমে আপনি আপনার রুচি বা ক্ষুধা বাড়াতে পারবেন।

১০. কোলেস্টেরলকে কমাতে সহায়তা করেঃ

আমলকি কোলেস্টেলের মাত্রা বজায় রাখতে সাহায্য করে। ২০০৭ সালের একেটি গবেষণা করেছিল ইঁদুরের উপর , গবেষণায় এটা প্রমাণিত হয়েছে যে আমলকি উচ্চ কোলেস্টেরলের সাথে লড়াই করতে সহায়তা করে।

যাদের উচ্চ কোলেস্টেলের মাত্রায় আছে, তারা আমলকির ব্যবহারের মাধ্যমে এর সঠিক মাত্রায় আসতে পারবে।

উপরে বর্ণিত সুবিধাগুলো ছাড়াও আমলকির আরও কিছু উপকারিতাঃ

  • ওজন কমাতে আমালকি কার্যকরি।
  • কাশি, সর্দি, গলা ব্যথা এবং শ্বাস নালীর সংক্রমণ চিকিৎসা করতে দরকারী।
  • রক্ত পরিষ্কার করার জন্য উপকারী।
  • আমলকির রস কোষ্ঠকাঠিন্য এবং পাইলসের সমস্যা সমাধান করতে পারে।
  • এটি মানুষের স্বাস্থ্যকর বীর্য বাড়ায় এবং আমলকি মানুষের যৌন সমস্যায় খুব উপকারী।

আমলকি খাওয়ার কয়েকটি উপায়ঃ

  • টাটকা আমলকীঃ শুধুমাত্র্র এগুলি কেটে নিন এবং এক চিমটি নুন দিয়ে খান।
  • শুকনো আমলকীঃ রোদে শুকিয়েও অমলকি খেতে পারেন।
  • আমলকীর রসঃ রস আকারে গ্রহণ করতে পারেন।
  • আমলকির পাউডারঃ আমলকির পাওডার হিসেবেও খেতে পারেন খুব সহজেই। বর্তমানে বাজারে আমলকির পাওডার পাওয়া যায়।
  • চাটনি/আচারঃ আমলকির চাটনি বা আচার বানিয়েও খেতে পারেন।
  • আমলা তেলঃ বাজারে আমলা তেল পাওয়া যায়, আপনি চাইলেই তা ব্যবহার করে আপনার চুলের গোড়া মজবুত এবং চুল পড়া থেকে রক্ষা করতে পারেন।