//ডেটা কমিউনিকেশন মিডিয়া/মাধ্যম কি? ডেটা ট্রান্সমিশন মিডিয়া?
ডেটা কমিউনিকেশন মিডিয়া/মাধ্যম কি? ডেটা ট্রান্সমিশন মিডিয়া? Save

ডেটা কমিউনিকেশন মিডিয়া/মাধ্যম কি? ডেটা ট্রান্সমিশন মিডিয়া?

ডেটা কমিউনিকেশন মিডিয়া হলো; যার মাধ্যমে ডেটা এক স্থান থেকে অন স্থানে বা এক ডিভাইস থেকে অন্য একটি ডিভাইসে ডেটা/তথ্য আদান-প্রদান বা স্থানান্তর হয় তাকেই ডেটা কমিউনিকেশন মিডিয়া/মাধ্যম বলে।

অর্থাৎ ডেটা কমিউনিকেশন মিডিয়া বলতে আমরা বলতে পারি, যার মাধ্যমে দুই বা ততোধিক কম্পিউটারের মধ্যে ডেটা আদান প্রদান করা হয়, এখানে মাধ্যমগুলো হতে পারে, ক্যাবল/তার. রেডিও ওয়েভ, টেলিফোন লাইন, মাইক্রোওয়েভ, স্যাটেলাইট ইত্যাদি।

ডেটা কমিউনিকেশন মিডিয়া বা নেটওয়ার্ককে মূলত দুইভাগে ভাগ করে, যথাঃ

  1. তারযুক্ত ডেটা কমিউনিকেশন মিডিয়া
  2. তারবিহীন ডেটা কমিউনিকেশন মিডিয়া

তারযুক্ত মিডিয়াঃ

ক্যাবল/তার সংযোগের মাধ্যমে ডেটা স্থানান্তর করার মাধ্যমকে তারযুক্ত মিডিয়া বলে। অর্থাৎ তার সংযোগের মাধ্যমে এক কম্পিউটার থেকে অন্য একটি কম্পিউটারে ডাটা স্থানান্তর করার মাধ্যমকেই তারযুক্ত মিডিয়া বলে।

তারযুক্ত মিডিয়া খুব দ্রুত ডেটা স্থানান্তর বা সরবরাহ করতে পারে। এটি দীর্ঘ দূরত্বে সিগন্যালের উচ্চ গতির স্থানান্তর এবং বার্তার জন্য সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য মিডিয়া হিসেবে পরিচিত।



সাধারণত তিন ধরণের তারযুক্ত ডেটা কমিউনিকেশন মিডিয়া/ ট্রান্সমিশনে ব্যবহৃত হয়:

  1. কো-এক্সিয়াল ক্যাবল/Coaxial Cable
  2. টুইস্টেড পেয়ার ক্যাবল/Twisted-Pair Cable
  3. ফাইবার অপটিক ক্যাবল/Fiber Optic Cable
কো-এক্সিয়াল ক্যাবল:

কোক্সিয়াল কেবলটি তামা ভিত্তিক তারের কেবল। টি ১৮৮০ সালে উদ্ভাবিত হয়েছিল। এটি চারটি পৃথক স্তর সমন্বয়ে গঠিত। চারটি পৃথক স্তর হলো: 1. Centre core 2. Dielectric Insulator 3. Metallic Shield 4. Plastic Jacket. অর্থাৎ কোক্সিয়াল ক্যাবলের কেন্দ্রস্থলে একটি সলিড কপার তার থাকে, এই তারটিকে ঘিরে আবার অপরিবাহী প্লাস্টিক ফোমের ইনস্যুলেশন রয়েছে। ইনস্যুলেশন এর চারপাশে আবার জাল বা নেট আকৃতি দ্বারা আচ্ছন্ন এবং সবার বাইরে প্লাস্টিকের জ্যাকেট দিয়ে ঢাকা থাকে।

কো-এক্সিয়াল ক্যাবল সাধারণত টেলিগ্রাফ, টেলিফোন, টেলিভিশন এবং ইন্টারনেট সংকেত প্রেরণে ব্যবহৃত হয়ে থাকে।

টুইস্টেড পেয়ার ক্যাবল:

টুইস্টেড পেয়ার ক্যাবল হলো দুটি স্বতন্ত্রভাবে অন্তরক তারের সমন্বয়ে একে অপরের চারদিকে মোচড় দিয়ে মোড়ানো। এ ক্যাবলটিতে ৪ জোড়া তার একসাথে থাকে এবং প্রতিটি জোড়ার একটি কমন রং হলো সাদা এবং বাকি তারগুলো আলাদা/ভিন্ন রঙের হয়ে থাকে। এ ক্যবলের তারগুলোকে পৃথক করার জন্য এদের মাছে অপরিবাহী পদার্থ ব্যবহৃত হয়ে থাকে।

ট্যুইস্টেড-পেয়ার কেবলটি পুরোনো টেলিফোন নেটওয়ার্কগুলিতে ব্যবহৃত হয় এবং এটি অল্প ব্যয়ের মাধ্যমে কম দূরত্বের মধ্যে নেটওয়ার্ক তৈরির জন্য ব্যবহৃত হয়।



ফাইবার অপটিক ক্যাবল:

ফাইবার অপটিক ক্যাবল এক ধরনের কাচের তন্তু দ্বারা গঠিত যেখানে আলোর গতিতে ডেটা/তথ্য আদান প্রদান করা যায়। অপটিকাল ফাইবার আলোর মাধ্যমে তথ্য/ডেট প্রেরণ করে, যেখানে আলোক সংকেত ডেটা হিসাবে ডিকোড করা হয়। অতএব, ফাইবার অপটিক আসলে একটি সংক্রমণ মাধ্যম যেটা খুব বেশি গতিতে দীর্ঘ দূরত্বে সংকেত বহন করার একটি পাইপ হিসেবে কাজ করে।

ফাইবার অপটিক্স সাধারণত টেলিযোগাযোগ সেবা যেমন ইন্টারনেট, টেলিভিশন এবং টেলিফোনগুলিতে ব্যবহৃত হয়ে থাকে।

তারবিহীন মিডিয়া ডেটা কমিউনিকেশন মিডিয়া:

কোন প্রকার তার/ক্যাবল ব্যবহার ছাড়াই ডেটা এক কম্পিউটার থেকে অন্য কম্পিউটারে আদান-পদান করার মাধ্যমকেই তারবিহীন ট্রান্সমিশন মিডিয়া বলে। তারবিহীন মিডিয়া সাধারণত খুব উচ্চ ফ্রিকোয়েন্সিগুলিতে কাজ করে। এই ধরণের যোগাযোগকে প্রায়শই ওয়্যারলেস যোগাযোগ হিসাবে চিহ্নিত করা হয়। এই যোগাযোগ মিডিয়ার মাধ্যমে দূরবর্তী স্থানেও খুব সহজেই ডেটা স্থানান্তর করা যায়।

তারবিহীন ডেটা কমিউনিকেশন মিডিয়া সাধারণত ৩ ধরণের:

  1. রেডিও তরঙ্গ/Radio waves
  2. মাইক্রো ওয়েভস/Micro waves
  3. ইনফ্রারেড তরঙ্গ/Infrared waves
১. রেডিও তরঙ্গ:

রেডিও তরঙ্গগুলি তড়িৎ চৌম্বকীয় বিকিরণ হিসাবে একসাথে শ্রেণিবদ্ধ তরঙ্গগুলির বৃহত্তর গোষ্ঠীর একটি অংশ। এই বিশাল তরঙ্গগুলি তাদের ফ্রিকোয়েন্সি এবং তরঙ্গদৈর্ঘ্যের উপর নির্ভর করে ছোট ছোট দলে বিভক্ত হয়।

অর্থাৎ রেডিও তরঙ্গগুলি তড়িৎ চৌম্বকীয় তরঙ্গ যা আলো, মাইক্রোওয়েভ, এক্স-রে, ইনফ্রারেড, অতিবেগুনী ইত্যাদি অন্তর্ভুক্ত করে রেডিও তরঙ্গগুলি বৈদ্যুতিক ক্ষেত্র এবং চৌম্বকীয় ক্ষেত্র উভয় সমন্বয়ে গঠিত।



২. মাইক্রো ওয়েভস:

মাইক্রোওয়েভ হলো নির্দিষ্ট ফ্রিকোয়েন্সি সীমার মধ্যে তড়িৎ চৌম্বকীয় তরঙ্গ। মাইক্রোওয়েভগুলি ডেসিমিটার পরিসরে তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের সাথে বৈদ্যুতিন চৌম্বকীয় non-ionizing/অ-আয়নাইজিং বিকিরণ যা রেডিও যোগাযোগ, রাডার, সেল ফোন এবং ওয়াই-ফাই এবং মাইক্রোওয়েভ রান্নার জন্য ব্যবহৃত হয়। 

মাইক্রোওয়েভ মূলত ২টি ট্রান্সসিভার নিয়ে গঠিত; একটি সিগন্যাল ট্রান্সমিট অন্যটি রিসিভ ট্রান্সমিট যা রিসিভ করে।

৩. ইনফ্রারেড তরঙ্গ:

ইনফ্রারেড হলো এক ধরণের তরঙ্গনির্ভর যোগাযোগ ব্যবস্থা। টেলিভিশন, খেলন গাড়ী, এয়ারকন্ডিশন ইত্যাদি চালানোর জন্য রিমোট ব্যবহার করা হয় আর এই প্রযুক্তিতে ইনফ্রারেড তরঙ্গ ব্যবহৃত হয়ে থাকে।

ইনফারেড তরঙ্গ দেয়াল বা শক্ত বস্তু ভেদ করে অপরপ্রান্তে যেতে পারে না।