//ই-কমার্স কি এবং ই-কমার্স এর প্রকারভেদ উদাহরনসহ?
ই-কমার্স কি এবং ই-কমার্স এর প্রকারভেদ উদাহরনসহ Save

ই-কমার্স কি এবং ই-কমার্স এর প্রকারভেদ উদাহরনসহ?

ই-বাণিজ্য বা ইলেকট্রনিক কমার্সকে সংক্ষেপে ই-কমার্স বলা হয়।

ই-কমার্স হলো বিনিময়য়ের প্রধান মাধ্যম হিসাবে ইন্টারনেট ব্যবহার করে পণ্য ও পরিষেবাদি কেনা বেচার ব্যবস্থা। অর্থাৎ ই-কমার্স বলতে এমন একটি মাধ্যমকে বুঝায় যেখানে ব্যক্তি এবং প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ইন্টারনেটের মাধ্যমে জিনিসপত্র বা পণ্য ও সেবা কিনতে এবং বিক্রয় করার সুযোগ করে দেয়।

ই-কমার্স যা কম্পিউটার, মোবাইল ফোন বা ট্যাবলেট ব্যবহারের মাধ্যমে পরিচালিত হতে পারে।

এই ই-কমার্স ১৯৯০ এর দশক এবং ২০০০ এর দশকের প্রথম দিকে যখন ইন্টারনেট অ্যাক্সেসের প্রাপ্যতা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং জনপ্রিয় অনলাইন বিক্রেতাদের আবির্ভাবের মাধ্যমে এই মাধ্যমটি আওতা বেড়েছে। Amazon ১৯৯৫ সালে জেফ বেজোসের গ্যারেজে একটি বই-শিপিংয়ের ব্যবসা হিসাবে কাজ শুরু করে। eBay, যা গ্রাহকদের অনলাইনে একে অপরের কাছে পণ্য ও সেবা বিক্রি করতে সক্ষম করে। এভাবেই মূলত এই ই-কমার্স আজকে এত জনপ্রিয়তার শীর্ষে আছে।



ই-কমার্স এর প্রকারভেদঃ

ই-কামর্সকে প্রধানত চার ভাগে শ্রেণিবদ্ধ করা যেতে পারে যথাঃ

  • Business to Business
  • Business to Consumer
  • Consumer to Consumer
  • Consumer to Business

১. Business to Business: এটি হলো এমন একটি পদ্ধতি যেখানে এক ব্যবসায় এর সাথে অন্য ব্যবসায়ের লেনদেন হয়। অর্থাৎ Business to Business ই-কমার্সে প্রত্যেকটি প্রতিষ্ঠান একে অপরের সাথে লেনদেন করে। সুতরাং লেনদেনের ক্ষেত্রে উৎপাদনকারী, পাইকার এবং খুচরা বিক্রেতা জড়িত থাকে।

২. Business to Consumer: Business to Consumer ই-কমার্সে ব্যবসায়ের পণ্য এবং সেবা সমূহ সরাসরি ভোক্তর নিকট বিক্রয় করে থাকে। এক্ষেত্রে ভুক্তগণ ওয়েবসাইট ব্রাউজ করে পণ্য ও সেবা এবং অন্যান পরিসেবা পর্যালোচনা করতে পারে। যদি ভোক্তার কাছে পণ্য পছন্দ হয় তাহলে তারা অর্ডার করার মাধ্যমে খুব সহজেই পণ্য পেয়ে থাকে প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে। সবচেয়ে জনপ্রিয় উদাহরণ প্লাটফর্ম হলো অ্যামাজন, ফ্লিপকার্ট ইত্যাতি।

৩. Consumer to Consumer: যেখানে গ্রাহকরা একে অপরের সাথে সরাসরি যোগাযোগ করে যেখানে কোনও সংস্থা জড়িত থাকে না। এর সুস্পষ্ট উদাহরণ হলো eBay, OLX, Quikr বা অন্য কোনও ওয়েবসাইট। যেখানে খুব সহজেই সেকেন্ড হ্যান্ড পণ্যসামগ্রী ক্রয়/বিক্রয় হয়ে থাকে।

৪. Consumer to Business: Consumer to Business ই-কমার্সের মাধ্যমে ভুক্তা থেকে প্রতিষ্ঠান বা ব্যবসায়ে পরিসেবা সরবারাহ করে থাকে। যেমন ফ্রিল্যান্সাররা ব্যবসায়ের জন্য বা এজেন্ড হয়ে সেবা বা পণ্য সামগ্রী বিক্রি করে থাকে। এ ই-কমার্সের অনেকগুলে মাধ্যম রয়েছে যেমন: Freelancer, Fiverr and Upwork ইত্যাদি।



সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয় ই-কামর্স প্রতিষ্ঠানগুলো হলোঃ
  • Amazon
  • eBay
  • Flipkart
  • Upwork
  • Fiverr
  • Quikr
  • Olx

ই-কমার্স ব্যবসায়ের কয়েকটি উদাহরণ:

  1. Retail: কোন প্রকার মধ্যস্থতাকারী ছাড়াই সরাসরি গ্রাহকের কাছে পণ্য বিক্রয়।
  2. Dropshipping: আপনি তৃতীয় পক্ষের প্রস্তুতকারক বা সরবরাহকারী থেকে পণ্যটি কিনতে এবং সরাসরি গ্রাহকের কাছে পণ্যটি বিক্রি করে দিতে পারেন।
  3. Digital products: টেমপ্লেট, যেকোনও কোর্স, ই-বুকস, সফ্টওয়্যার, বা মিডিয়া ফাইল বা ডাউনলোডযোগ্য আইটেমগুলি যা ব্যবহারের জন্য কিনতে হয়। এগুলোও ইকমার্স ব্যবসায়ের একটি বড় অংশ।
  4. Wholesale: পাইকারি পণ্য সাধারণত একজন খুচরা বিক্রেতার কাছে বিক্রি হয়, যারা পরবর্তীতে পণ্যটি গ্রাহকদের কাছে বিক্রি করতে পারে।
  5. Services: কোচিং, রাইটিং, প্রভাবক ইত্যাদি সার্ভিস হিসাবে বিবেচিত। এগুলোও অনলাইনে বিক্রি করার মাধ্যমে ব্যবসা শুরু করা যায়।
  6. Subscription: গ্রহকগণ কেবল একবার অর্ডার করা দরকার এবং তারপরে পণ্যগুলি তাদের সময়মতো অন্তর্ভুক্ত করা হয়, সাধারণত মাসে একবার।

ই-কমার্সের সুবিধা:

  1. ই-কমার্সের এর মাধ্যমে এখন খুব সহজেই বিশ্বব্যাপী পণ্যের আদান-প্রদান করা সম্ভব হচ্ছে। যেকেউ ইচ্ছা করলে সুদূর আমেরিকা থেকে তার পছন্দনিয় পণ্য ক্রয় করতে পারে। ই-কমার্সের মাধ্যমে ঘরে বসে প্রয়োজনীয় পণ্য ক্রয় করার সুযোগ তৈরি হয়েছে এবং লেনদেনের ব্যয়কে হ্রাস করেছে।
  2. খুব দ্রত সময়ে কোনো প্রকার জামেলা ছাড়াই পণ্য পাওয়া যায়। প্রতিষ্ঠানগুলো ভোক্তাদের সুবিধার জন্য তাদের থেকে অভিযোগ নেয় এবং দ্রত সমাধান করে সর্বোচ্চ সেবা প্রদান করে থাকে।
  3. ভোক্ত বা ক্রেতা নিজে পণ্য সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে অর্ডার করে থাকে কোনো প্রকার তৃতীয় পক্ষ ছাড়াই।
  4. সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আপনি নিজের পণ্যটি সারা বিশ্ব জুড়ে যে কারও কাছে বিক্রি করতে পারেন।
  5. যখন গ্রাহক পণ্য বা পরিষেবাতে খুশি হন তারা রেটিং প্রদান করেন যা আপনার পণ্যের বিক্রি বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।
  6. ই-কমার্স ব্যবসায় ২৪ ঘন্ট বা সপ্তাহে ৭দিন খোলা থাকে। ই-কমার্স সাইটগুলি যে কোনও সময়, যে কোনও জায়গায় অ্যাক্সেস করা যায়।
  7. কখনও কখনও অনলাইন বিক্রেতাদের কাছ থেকে বিনামূল্যে শিপিং পাওয়া যায়। যার ফলে ই-কমার্সের মাধ্যমে মানুষ ঘরে বসে ক্রয় করতে আগ্রহী হয়।
  8. ই-বাণিজ্য সংস্থার/ব্যবসায়ের ব্র্যান্ড চিত্রের উন্নতি করে। ই-বাণিজ্য সংস্থাটিকে আরও ভাল গ্রাহক পরিষেবা সরবরাহ করতে সহায়তা করে।
  9. ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের উৎপাদনশীলতা বাড়িয়েছে এবং গ্রহকরা ই-কমার্স অ্যাপ্লিকেশনটি ব্যবহার করে সস্তা এবং সর্বোত্তম বিকল্পটি তুলনা এবং নির্বাচন করতে পারছে।
  10. ই-কমার্স সংস্থাগুলির মধ্যে প্রতিযোগিতা বাড়ার কারনে সংগঠনগুলি গ্রাহকদের জন্য যথেষ্ট ছাড় দেয়।

ই-কমার্সের অসুবিধা:

  1. ই-কামার্সের মাধ্যমে আপনি আপনার পছন্দের পণ্যেকে স্পর্শ, গন্ধ, স্বাদ ইত্যাদি উপলদ্ধি করতে পারবেন না যার ফলে গ্রাহকরা পণ্যগুলির উপর কিছুটা বিশ্বাসের সমস্যার মুখোমুখি হন।
  2. অনলাইনে কোনও জিনিস কেনার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় সমস্যা হল আপনার কাছে কোনও পণ্যের মানের কোনও গ্যারান্টি নেই। অনেক সময় দেখা যায় ছবিতে পণ্যটি খুব সুন্দর দেখাচ্ছে কিন্তু ডেলিভারি দেওয়ার পর আপনার কাছে পণ্যটির মান ভালো পড়ে নাই।
  3. গ্রাহকরা অনলাইনে পণ্য অর্ডার কারার পর, পণ্যের ডেলিভারি নিয়ে সমস্যা হয় অর্থাৎ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে গ্রহকদের কাছে পণ্য পৌছাতে সমস্যার সম্মুখীন হয়।
  4. ই-কমার্স সাইটগুলি থেকে পণ্য ক্রয় করার সময় আপনার অনেক ব্যক্তিগত তথ্য দেওয়া প্রয়েজন যেমন: নাম, ফোন নম্বর, ঠিকানা এবং ব্যাংকের বিবরণ ইত্যাদি যা আপনার তথ্যের সুরক্ষার বাধা হয়ে ধারায়।
  5. অনলাইন ক্রেতাদের শারীরিকভাবে পরিদর্শন করার কোনও সুযোগ নেই এমনকি আপনি কখনও কখনও পণ্যের দামের বিষয়ে আলোচনার ক্ষমতারও সুযোগ দেওয়া হয় না।
  6. ই-বাণিজ্য অ্যাপ্লিকেশনগুলি এখনও বিকশিত হচ্ছে এবং দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে।
  7. ইন্টারনেট অ্যাক্সেস করার ক্ষেত্রেও গ্রহকরা সমস্যার সম্মুখীন হন। অনেক সময় সাইট ক্রাশ সমস্যা হয়ে থাকে।
  8. কিছু পণ্য অনলাইনে কেনা কঠিন হয়ে থাকে।

যদিও ই-কমার্সের অনেক অসুবিধা রয়েছে তবে ই-কমার্স ব্যবসায়টি দিন দিন আরো বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং মানুষরাও অনলাইনে পণ্য ক্রয় করার ইচ্ছা প্রকাশ করছে। আশা করা যায় অদূর ভবিষ্যৎ এ ই-কমার্স ব্যবসায়টি আরো এগিয়ে যাবে।

আরও পড়ুনঃ

ন্যানো টেকনোলজি কি এবং ন্যানোটেকনলজির ব্যবহার

গ্লোবাল ভিলেজ (GLOBAL VILLAGE) বা বিশ্বগ্রাম বলতে কি…